বাইকটা দাঁড় করালাম। চাবি লক করলাম কি না মনে নেই। লাইট হয়ত জ্বলছে, পিছনে গাড়ির হেডল্যাম্পে। বেশিক্ষণ জ্বললে ব্যাটারি ফুরিয়ে যাবে,
স্টার্ট নেবে না। তাও খেয়াল নেই আমার। মুগ্ধের মত হেঁটে এগিয়ে গেলাম। পাহাড়ী পথ। দুটো চওড়া পাথরের মাঝে ফাঁকটুকু কাঠের পাটাতন দিয়ে বেঁধে সমান মেঝে করা হয়েছে। দুদিকে কোঠা বাড়ি। রাস্তা আপাতত শেষ কারণ কাঠের মেঝে বরাবর গটগটিয়ে হেঁটে গিয়ে দেখলাম সামনেও রাস্তার মুখে ঠায় দাঁড়িয়ে একটা পুরোনো শ্যাওলা ধরা কোঠা দোতলা বাড়ি। পিছনে তার সূর্য অস্ত যাচ্ছে। হাতে কি ছিল জানি না। পকেটেও না। আসলে জানার দরকারই নেই কিছু সাথে ছিল কি না। বাড়িটা ছিল, আমি ছিলাম আর একটা নেশা ছিল। না, আমি নেশা করি না। সিগ্রেট, মদ, গাঁজা এসব ছুঁইনি কোনোদিন। ছবিটায় নেশা ছিল। চোখে যেটা দেখছিলাম। সামনের বাড়িটা। ওটা কি পাহাড়ের উপরেই নাকি ওটা বড় পাথর দুটো থেকে এগিয়ে বেরিয়ে শূন্যে ভাসমান? পায়ের নীচে তাকাইনি। না, আমি উচ্চতায় ভয় পাই। উঠতে ভয় পাই। ছোটবেলায় লুকোচুরি খেলতে খেলতে নেমেছিলাম খুব। ভুলেও বুঝিনি যে ওঠা কঠিন হবে। পিছনের দিকের বাঁশঝাড়ের দিকে নেমে গেছিলাম। ওখান টা বড্ড খাড়াই। জানতাম ওখানে কেউ খুঁজবে না। ওখানে দিন-দুপুরে গোসাপ চরে বেড়ায়। বাঁশের পচা পাতায় পা রাখলে আসেপাশে ব্যাং - জলফড়িং নড়ে ওঠে। উঠতে পারিনি। আসলে নামাটা সোজা। সেই আমি কি জানতাম...?
হেঁটে যাই কোঠা বারান্দায়। মড়মড় করে ওঠে পুরানো কাঠের পাটা। পেরেক এর সাথে কাঠের ঘষা লেগে তীক্ষ্ণ ক্যাঁচ কোঁচ শব্দ ওঠে। গায়ে কাঁটা দেয়। ব্যাঙ - জলফড়িঙের স্মৃতি লাফিয়ে ওঠে। কিন্তু আমি তো নামিনি কোথাও। পাশে চেয়ে দেখি বারান্দার ঝুলে ক্ষয়ে পচে খসে যাওয়া কাঠ আর লোহার রেলিং। পদশব্দে তারা নেচে নেচে উঠছে যেন। ব্যঙ্গ নাকি? তবে কি আমি নামছি? অল্টিমিটার আনিনি। পিঠে রুকস্যাকও নেই। থোড়াই আমি ট্রেকিং এ এসেছি। এ তো সান্ধ্যভ্রমণ ছিল। হঠাৎ বদলে গেল কেন?
দরজায় ঘুণ ধরে আছে। একমাত্র দরজা। বন্ধ। হাত ছোঁয়াতেই খুলে গেল। যেন আমার অপেক্ষাতেই ছিল। তবু, তাই যদি হবে তবে খোলা ছিল না কেন? খট করে মরচে ধরা পাখি-কব্জাটা মটকে গিয়ে কেতরে গেল দরজাটা একদিকে। দুলতে লাগল নাচিয়ে মাকড়সার মত - কিঁচ্ কিঁচ্। পা রাখলাম ভিতরে। হাওয়াও হাতছানি দেয়। যেন বাইরের দমকা বাতাস আমাকে ঠেলে নিয়ে গেল অন্দরমহলের আনুকুল্যে। সূর্য কি ডুবে গেছে? ভিতরে তো মিশকালো অন্ধকার হবার কথা! তাহলে এত আলো কেন? কোত্থেকে এত আলো আসছে? মেঝেয় জমা ধূলোয় পা ফেলতেই মেঝে কথা বলে উঠছে যেন। মেঝের কাঠের ফাঁকগুলো থেকে দেখা যাচ্ছে ঘন অ্যাসফাল্টের মত কালো অন্ধকার। নীচে বুঝি কিছু নেই, খাদ ছাড়া। গা ছমছম। বুকে সাহস আছে কি এগিয়ে যাওয়ার? বুকে হাত রাখলাম। আলো দাও প্রভু। পথ ভুল করেছি কি? নাকি এ বাড়ি আমার? বুক থেকে আলো ছড়িয়ে গেছে। আমার হাত পা পিঠ ঠোঁট বাহু কোমর নাভি উরু গলা আঙুল স্তন যোনি থেকে আলো ঠিকরে বেরোচ্ছে। আমি কি তবে নারী? কিন্তু আমায় তো নারী হতে নেই! পথ নাকি নারীর নয়, সিঁড়িও নয়। নারীর তাহলে কি?
কেউ ডাকছে। চমক লাগল। এ বাড়িতে কেউ বাস করে? তাই কি করে সম্ভব! মেঝেয় পুরু ধূলোর আস্তরণ - পদচিহ্নের অস্তিত্বই নেই। এগিয়ে চললাম। সামনে সিঁড়ি। বেয়ে উঠে ডানদিকে বারান্দা বেয়ে হেঁটে গেলে পাশে সার বাঁধা ঘর। আলোয় আলো চতুর্দিক। ভগ্নপ্রায় বাড়ির দ্বিতলে ঝুল বারান্দায় ভাঙা ভাঙা কাটের পাটাতন। সাথে রেলিঙের উপর পুরু ধূলোর স্তরের মাঝে লিকলিকে সাপের মত শ্যাপ গ্রিন রঙ এর একরকম লতা। ফুল ফুটে আছে। বা ফুটছে। ঘরের দরজায় গেলাম। জানি উপরে আরো কয়েকটা ফ্লোর আছে। জামাকাপড় ভারী লাগতে শুরু করেছে। শিশুর মত এগোচ্ছি। কাপড় জামা আলগা হয়ে এল। ছোটবেলায় হামাগুড়ি দিয়েছি অনেক। বড় বয়সেও হামাগুড়ি দিতাম মায়ের সাথে খাবার সময় খেলা করতে করতে। শিশু হতে গেলে তার বহিঃপ্রকাশও দেখাতে হয়। আমি সেই শিশু। আমি কি থেকে পালাতে চাইছি? আর কে-ই বা আমাকে ধরে আনবে সেটার কাছে?
দরজা খোলা ছিল। ভিতরে একজন অত্যন্ত অল্প বয়স্ক শিশু খেলে বেড়াচ্ছে। আমারই মত। এইই কি আমাকে ডেকেছিল? কিন্তু সে স্বর যে একজন বৃদ্ধের ছিল! এই শিশুর রূপ বর্ণনা করা যায় না। ত্বকের রঙ ভাষায় আসে না। দৃষ্টির ভাষা দূর থেকে আসা দুর্বোধ্য শব্দের মত মনে হয়। দুহাত ফাঁকা। তবু যেন কি একটা খেলা খেলছে বাতাস নিয়ে। নাকি অন্য কিছু আছে সেই হাতের ফাঁকে? অদৃশ্য কিছু...? না। জানিনা। আমি এগিয়ে যেতে শিশুটাও পালিয়ে গেল পিছনের দরজা দিয়ে। আমি হামাগুড়ি দিয়ে পিছু নিলাম। মুখ দিয়ে শব্দ বের হচ্ছে না। এখনও তো কথা বলা শিখিনি। উঠতে পারছি না দু পায়ে ভর করে। হাঁটতেও শিখিনি তো। কোনো উষ্ণতা বা শীত অনুভূত হচ্ছিল না। যেন আমিই পরিবেশ, তাই তার সাথে আমার ফারাক নেই কোনো।
শিশুটা একটা মেঘে মিশে থাকা সিঁড়ি বেয়ে অক্লেশে হামাগুড়ি দিয়ে বেয়ে উঠে কোথায় মিলিয়ে গেল। সিঁড়ির ধাপে হাত রাখলাম। ভাসমান সিঁড়ি। আমারও তো ভার নেই। উঠতে থাকলাম বিনা বাধায় - হাওয়ায় ভর করে। নিজেকে আর দেখা যাচ্ছে না, বদলে আলো দেখতে পাচ্ছি সারা শরীরময়। কিসের শব্দ নাকি কিসের আলো নাকি কিসের স্পর্শ! কি জানি। কোনো বোধ নেই কোনো বুদ্ধি নেই। শুধু মন্ত্রমুগ্ধের মত চলা।
শেষ সিঁড়ি পার হতেই মেঘ নাকি কুয়াশা কি জানি সরে গেল। সামনে অনন্ত শূন্য। নাকি সামনে সব কিছুই। ইচ্ছে বলে কিছু ছিল না তবু দেখছিলাম সব কিছুই। দেখতে চাইছিলাম বলাই ভাল। এক মহা যোনী এক প্রান্তে, অপরপ্রান্তে অগ্নিকুণ্ড। সমস্ত কিছুই ভেসে চলেছে ধারায়। তাতে কি নেই, আলো আছে, বস্তু আছে, মায়া আছে, অনুভূতি আছে, নিয়ম আছে, বিজ্ঞান আছে, আছে আরো সব কিছু অব্যক্ত।
এই বুঝি স্বর্গ!
পিছন ফিরে তাকালাম, ভাসমান সিঁড়িটা নেই আর। কিন্তু আমার বোধ হয় ইচ্ছে হল তোমাকে এইসব দেখাই। সিঁড়িটা আবার প্রকট হল। খাড়াই উতরাই। তবে নামতে আমার ভয় নেই, উঠতে,যেমন লাগে।
সেদিন ফিরে এসেছিলাম শুধু তোমাকে দেখব বলে, তোমাকেও ওইসব দেখাবো বলে। কিন্তু তুমি কি পারবে পৌঁছোতে? এ সিঁড়ির অস্তিত্ব কোথায়? ত্রিমাত্রিক বাস্তবে নাকি অন্য কোনো মাত্রায়? নাকি মনে? তবু যাবো। খুঁজব সেই সিঁড়ি। একাকীত্বে সুখ নেই। যাবে তো তুমি? যাবে তো?...
স্টার্ট নেবে না। তাও খেয়াল নেই আমার। মুগ্ধের মত হেঁটে এগিয়ে গেলাম। পাহাড়ী পথ। দুটো চওড়া পাথরের মাঝে ফাঁকটুকু কাঠের পাটাতন দিয়ে বেঁধে সমান মেঝে করা হয়েছে। দুদিকে কোঠা বাড়ি। রাস্তা আপাতত শেষ কারণ কাঠের মেঝে বরাবর গটগটিয়ে হেঁটে গিয়ে দেখলাম সামনেও রাস্তার মুখে ঠায় দাঁড়িয়ে একটা পুরোনো শ্যাওলা ধরা কোঠা দোতলা বাড়ি। পিছনে তার সূর্য অস্ত যাচ্ছে। হাতে কি ছিল জানি না। পকেটেও না। আসলে জানার দরকারই নেই কিছু সাথে ছিল কি না। বাড়িটা ছিল, আমি ছিলাম আর একটা নেশা ছিল। না, আমি নেশা করি না। সিগ্রেট, মদ, গাঁজা এসব ছুঁইনি কোনোদিন। ছবিটায় নেশা ছিল। চোখে যেটা দেখছিলাম। সামনের বাড়িটা। ওটা কি পাহাড়ের উপরেই নাকি ওটা বড় পাথর দুটো থেকে এগিয়ে বেরিয়ে শূন্যে ভাসমান? পায়ের নীচে তাকাইনি। না, আমি উচ্চতায় ভয় পাই। উঠতে ভয় পাই। ছোটবেলায় লুকোচুরি খেলতে খেলতে নেমেছিলাম খুব। ভুলেও বুঝিনি যে ওঠা কঠিন হবে। পিছনের দিকের বাঁশঝাড়ের দিকে নেমে গেছিলাম। ওখান টা বড্ড খাড়াই। জানতাম ওখানে কেউ খুঁজবে না। ওখানে দিন-দুপুরে গোসাপ চরে বেড়ায়। বাঁশের পচা পাতায় পা রাখলে আসেপাশে ব্যাং - জলফড়িং নড়ে ওঠে। উঠতে পারিনি। আসলে নামাটা সোজা। সেই আমি কি জানতাম...?
হেঁটে যাই কোঠা বারান্দায়। মড়মড় করে ওঠে পুরানো কাঠের পাটা। পেরেক এর সাথে কাঠের ঘষা লেগে তীক্ষ্ণ ক্যাঁচ কোঁচ শব্দ ওঠে। গায়ে কাঁটা দেয়। ব্যাঙ - জলফড়িঙের স্মৃতি লাফিয়ে ওঠে। কিন্তু আমি তো নামিনি কোথাও। পাশে চেয়ে দেখি বারান্দার ঝুলে ক্ষয়ে পচে খসে যাওয়া কাঠ আর লোহার রেলিং। পদশব্দে তারা নেচে নেচে উঠছে যেন। ব্যঙ্গ নাকি? তবে কি আমি নামছি? অল্টিমিটার আনিনি। পিঠে রুকস্যাকও নেই। থোড়াই আমি ট্রেকিং এ এসেছি। এ তো সান্ধ্যভ্রমণ ছিল। হঠাৎ বদলে গেল কেন?
দরজায় ঘুণ ধরে আছে। একমাত্র দরজা। বন্ধ। হাত ছোঁয়াতেই খুলে গেল। যেন আমার অপেক্ষাতেই ছিল। তবু, তাই যদি হবে তবে খোলা ছিল না কেন? খট করে মরচে ধরা পাখি-কব্জাটা মটকে গিয়ে কেতরে গেল দরজাটা একদিকে। দুলতে লাগল নাচিয়ে মাকড়সার মত - কিঁচ্ কিঁচ্। পা রাখলাম ভিতরে। হাওয়াও হাতছানি দেয়। যেন বাইরের দমকা বাতাস আমাকে ঠেলে নিয়ে গেল অন্দরমহলের আনুকুল্যে। সূর্য কি ডুবে গেছে? ভিতরে তো মিশকালো অন্ধকার হবার কথা! তাহলে এত আলো কেন? কোত্থেকে এত আলো আসছে? মেঝেয় জমা ধূলোয় পা ফেলতেই মেঝে কথা বলে উঠছে যেন। মেঝের কাঠের ফাঁকগুলো থেকে দেখা যাচ্ছে ঘন অ্যাসফাল্টের মত কালো অন্ধকার। নীচে বুঝি কিছু নেই, খাদ ছাড়া। গা ছমছম। বুকে সাহস আছে কি এগিয়ে যাওয়ার? বুকে হাত রাখলাম। আলো দাও প্রভু। পথ ভুল করেছি কি? নাকি এ বাড়ি আমার? বুক থেকে আলো ছড়িয়ে গেছে। আমার হাত পা পিঠ ঠোঁট বাহু কোমর নাভি উরু গলা আঙুল স্তন যোনি থেকে আলো ঠিকরে বেরোচ্ছে। আমি কি তবে নারী? কিন্তু আমায় তো নারী হতে নেই! পথ নাকি নারীর নয়, সিঁড়িও নয়। নারীর তাহলে কি?
কেউ ডাকছে। চমক লাগল। এ বাড়িতে কেউ বাস করে? তাই কি করে সম্ভব! মেঝেয় পুরু ধূলোর আস্তরণ - পদচিহ্নের অস্তিত্বই নেই। এগিয়ে চললাম। সামনে সিঁড়ি। বেয়ে উঠে ডানদিকে বারান্দা বেয়ে হেঁটে গেলে পাশে সার বাঁধা ঘর। আলোয় আলো চতুর্দিক। ভগ্নপ্রায় বাড়ির দ্বিতলে ঝুল বারান্দায় ভাঙা ভাঙা কাটের পাটাতন। সাথে রেলিঙের উপর পুরু ধূলোর স্তরের মাঝে লিকলিকে সাপের মত শ্যাপ গ্রিন রঙ এর একরকম লতা। ফুল ফুটে আছে। বা ফুটছে। ঘরের দরজায় গেলাম। জানি উপরে আরো কয়েকটা ফ্লোর আছে। জামাকাপড় ভারী লাগতে শুরু করেছে। শিশুর মত এগোচ্ছি। কাপড় জামা আলগা হয়ে এল। ছোটবেলায় হামাগুড়ি দিয়েছি অনেক। বড় বয়সেও হামাগুড়ি দিতাম মায়ের সাথে খাবার সময় খেলা করতে করতে। শিশু হতে গেলে তার বহিঃপ্রকাশও দেখাতে হয়। আমি সেই শিশু। আমি কি থেকে পালাতে চাইছি? আর কে-ই বা আমাকে ধরে আনবে সেটার কাছে?
দরজা খোলা ছিল। ভিতরে একজন অত্যন্ত অল্প বয়স্ক শিশু খেলে বেড়াচ্ছে। আমারই মত। এইই কি আমাকে ডেকেছিল? কিন্তু সে স্বর যে একজন বৃদ্ধের ছিল! এই শিশুর রূপ বর্ণনা করা যায় না। ত্বকের রঙ ভাষায় আসে না। দৃষ্টির ভাষা দূর থেকে আসা দুর্বোধ্য শব্দের মত মনে হয়। দুহাত ফাঁকা। তবু যেন কি একটা খেলা খেলছে বাতাস নিয়ে। নাকি অন্য কিছু আছে সেই হাতের ফাঁকে? অদৃশ্য কিছু...? না। জানিনা। আমি এগিয়ে যেতে শিশুটাও পালিয়ে গেল পিছনের দরজা দিয়ে। আমি হামাগুড়ি দিয়ে পিছু নিলাম। মুখ দিয়ে শব্দ বের হচ্ছে না। এখনও তো কথা বলা শিখিনি। উঠতে পারছি না দু পায়ে ভর করে। হাঁটতেও শিখিনি তো। কোনো উষ্ণতা বা শীত অনুভূত হচ্ছিল না। যেন আমিই পরিবেশ, তাই তার সাথে আমার ফারাক নেই কোনো।
শিশুটা একটা মেঘে মিশে থাকা সিঁড়ি বেয়ে অক্লেশে হামাগুড়ি দিয়ে বেয়ে উঠে কোথায় মিলিয়ে গেল। সিঁড়ির ধাপে হাত রাখলাম। ভাসমান সিঁড়ি। আমারও তো ভার নেই। উঠতে থাকলাম বিনা বাধায় - হাওয়ায় ভর করে। নিজেকে আর দেখা যাচ্ছে না, বদলে আলো দেখতে পাচ্ছি সারা শরীরময়। কিসের শব্দ নাকি কিসের আলো নাকি কিসের স্পর্শ! কি জানি। কোনো বোধ নেই কোনো বুদ্ধি নেই। শুধু মন্ত্রমুগ্ধের মত চলা।
শেষ সিঁড়ি পার হতেই মেঘ নাকি কুয়াশা কি জানি সরে গেল। সামনে অনন্ত শূন্য। নাকি সামনে সব কিছুই। ইচ্ছে বলে কিছু ছিল না তবু দেখছিলাম সব কিছুই। দেখতে চাইছিলাম বলাই ভাল। এক মহা যোনী এক প্রান্তে, অপরপ্রান্তে অগ্নিকুণ্ড। সমস্ত কিছুই ভেসে চলেছে ধারায়। তাতে কি নেই, আলো আছে, বস্তু আছে, মায়া আছে, অনুভূতি আছে, নিয়ম আছে, বিজ্ঞান আছে, আছে আরো সব কিছু অব্যক্ত।
এই বুঝি স্বর্গ!
পিছন ফিরে তাকালাম, ভাসমান সিঁড়িটা নেই আর। কিন্তু আমার বোধ হয় ইচ্ছে হল তোমাকে এইসব দেখাই। সিঁড়িটা আবার প্রকট হল। খাড়াই উতরাই। তবে নামতে আমার ভয় নেই, উঠতে,যেমন লাগে।
সেদিন ফিরে এসেছিলাম শুধু তোমাকে দেখব বলে, তোমাকেও ওইসব দেখাবো বলে। কিন্তু তুমি কি পারবে পৌঁছোতে? এ সিঁড়ির অস্তিত্ব কোথায়? ত্রিমাত্রিক বাস্তবে নাকি অন্য কোনো মাত্রায়? নাকি মনে? তবু যাবো। খুঁজব সেই সিঁড়ি। একাকীত্বে সুখ নেই। যাবে তো তুমি? যাবে তো?...

অপূর্ব লাগলো ছোটদাভাই।🖤
উত্তরমুছুনআমাকে কে ছোটদাভাই বলে ডাকে?
মুছুন