।। স্বাধীনতা উপলক্ষ্যে ।। 

----------------------------------------------------------------------------------------------------------------------
মার সকাল হয় ঠিক ভোর পাঁচটায়।
যখন প্রথম সূর্যের কিরণটা এসে পড়ে চোখের পাতায়।
উঠে পড়ি শয্যা ছেড়ে।
মর্ণিগ ওয়াক, হাঁটতে হাঁটতে অনেক দূরে।
শয্যা রইলে পড়ে - থাক, থাক।
আমি স্বাধীন, শয্যার বাঁধন? নিপাত যাক।
কিছু পরেই ব্যাগ কাঁধে দুষ্টু ছেলের ভীড়।
আমাকে দেখে তাদের জিভের গতি অস্থির।
সে যাক।
চলতে হবে অনেক।
অসব কথা দূরে থাক।
দুপুর দুপুর করে এসে পড়ি এক বাজারে।
ছড়িয়ে আছে ভাঙ্গা-হাট এধারে ওধারে।
শেষ আনাজউলির করূণায় কিছু একটা জুটল শেষে।
তুই তখন অফিসে-ক্যাণ্টিনে-রেঁস্তরাঁ-ডাইনিং এর মজলিশে।
আমি কিন্তু স্বাধীন।
চললাম, সন্ধ্যের খোঁজে - ধোঁয়াটে রাস্তার লেজ ধরে।
দূরে - আরো দূরে।
রাতে নিওন আলো পেলাম, এক টুকরো পাঁউরুটিতে।
সহৃদয় উষ্ণ পোষাক পেলাম আমার গুটিসুটিতে।
তারা তিনজন...
মদের খেয়ালে আমাকে করাল প্রসাধন।
এই প্রথমবার আমার চার-চাকার পেটের মধ্যে পদার্পণ।
আমি কি তাদের বন্দিনী?
এমন ভাবে তো ভাবিনি।
নাহ, আমি স্বাধীন, স্বেচ্ছায় সঁপে দিলাম সব।
তারা সবাই আমাকে ছুঁইয়ে দিল।
আমি আমার প্রত্যেক ফোঁটা রক্ত বিন্দু দিয়ে ভোগ করলাম তিন মুহুর্ত।
কালাবর্তে আমাকে আবার কোলে তুলে নিল ফুটপাথ।
তখন গভীর রাত।
কানের লতিতে, নাভিতে তখন আমার সেরা পারফিউম।
ভারী চোখের পাতায় একুশ বছরের ঘুম।
কাল আবার ভোর পাঁচটায় সূর্য দেখব।
কাল আসিস ফের, তোদের জন্য রেখে যাব লবডঙ্কা।
আমার উদ্দেশ্য মোহনা -
যেখানে নদী হয়েছে বাধাহীন।
তোরা বলবি বলনা, "ভিখারিনী", "নষ্টা"; আমি আসলেই স্বাধীন।
=====================================================================
আগস্ট ১৫, ২০১৫
সৌরেন্দ্র নাথ কুণ্ডু

ঘোর নারীবাদ

এক বুক ভালোবাসায় শপথ করেছিলে।
তবু আজ আমি এক বুক লেলিহান শিখায়--
আমি অগ্নিপরীক্ষায়...

আমাকে দিয়েছ শুধু 
হাতে-সাজা পান
এক মুঠো ভান
কোল ভরা অভিমান।

আর ভোরের আজান,
মিছিলের গান
শুধু তোমার...

নারী-অভিমানী রূপকের নাম জল।
আমাকে রেখেছ তুমি
কুঁজোয় ঘড়ায়।
বোতল ভরিয়েছ ফ্রিজের শীতে।
বাকি সবটুকু তোমার, ঠিক বিপরীতে...

আমি তোমার জিভের আস্বাদন
কালো চুলে, নাভিতে, যোনিতে।
আমি তোমার প্রাণের সুরায়--
ধমনীতে - শোণিতে।

চেয়েছি গঙ্গা হতে, যমুনা হতে।
পেয়েছি অনেক - তবু কিন্তু...
তুমি মায়া দেখোনি, দূর্গা দেখোনি, বন্যা দেখেছ?

এসো, আমায় শিকল মুক্ত করো।
আমি পার্বতী, আমি নারী,
আমি তোমার মত হাজার শিশুর
জন্ম দিতে পারি।

_____________________________________________
সৌরেন্দ্র নাথ কুণ্ডু
৩০-১-১৪২২ / 14-May-2015
৭ঃ১০ অপরাহ্ন

।। কুটো ।।

জানি, বাঁচতে হবে।
তাকেও ছাড়া বাঁচতে হবে।
রাখতে হবে পুরানো খামে
তবু নতুন চিঠি।
...
বৃষ্টি এলে ভাসবে সবই...
চিঠিও ভিজে যাবে।
তবু ভাসবে নৌকা হয়ে
চিঠির কথা দুটো।
...
আজও আমি ডুবছি
খুঁজে সেই দুটি খড় কুটো।

।। উল্টে ।।



নিষাদের সুর ধরি - বিষাদের যাত্রী।
ঘুম ভেঙে চোখ খুলি, তবু ঘন রাত্রি।

মায়া মায়া ছায়া-ঘন মেঘ ফুঁড়ে বৃষ্টি।
চাঁদ নেই, তারা নেই -- দূর-ছোঁয় দৃষ্টি।

বিছানায় - বালিশেতে আতরের কাঁথা-লেপ।
হাতে পায়ে পচা প্রেম, মেঝে জোড়া আক্ষেপ।

ঘুরে বসি, ধুলো ঝেড়ে, ছাত ধরে ঝুলতে।
বাদুড়ের চোখ দিয়ে দেব সব উলটে...

১৮।০১।১৪২২
ইংঃ- ০২।০৫।২০১৫ ১১ঃ২৯ অপরাহ্ন